বাদেপাশা-শরীফগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগের নাম কটলীপাড়া-বসন্তপুর সড়ক

বাদেপাশা-শরীফগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগের নাম কটলীপাড়া-বসন্তপুর সড়ক


গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা-শরীফগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগের আরেক নাম কটলীপাড়া-বসন্তপুর সড়ক। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে যে সড়কটি নিয়ে দুর্ভোগের অবসান ঘটেনি এ দুই ইউনিয়নবাসীর। সড়কটির বাদেপাশা ইউনিয়নের বাগলা গ্রাম থেকে শুরু করে শরীফগঞ্জের বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশা দেখলে গাঁ শিউরে উঠবে যে কারো। মনে হবে এটি যেন বাংলাদেশ থেকে ছিটকে পড়া কোন ছিটমহলের সংযোগ সড়ক। অথচ সড়কটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম। যা সংযোগ স্থাপন করেছে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও ফেঞ্চুগঞ্জ- এ চার উপজেলাকে।


আরোও পড়ুনঃ গোলাপগঞ্জে কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন



১৯৯৬ সালে বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কটলীপাড়া থেকে শুরু করে শরীফগঞ্জের বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটির মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য নরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। অথচ দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময়েও বাস্তব রূপ পায়নি বৃহৎ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ সড়কটি।


২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় গেলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এ রাস্তাটির অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এবং যথারীতি বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কটলিপাড়া থেকে বাদেপাশা ইউনিয়নের মোল্লাকোণা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার পিচঢালাই সম্পন্ন করেন। কিন্তু এর পরেই থমকে যায় রাস্তাটির উন্নয়নকাজ।


রাস্তাটি উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর ভোগান্তি লাগবে নিজেরাই রাস্তাটির উন্নয়ন ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেন বাগলা গ্রামের প্রবাসী ও স্থানীয়রা। গ্রামবাসীরা মিলে ২০১৭ সালে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মোল্লাকোণা থেকে বাগলা বাজার পর্যন্ত ২কিলোমিটার সড়কে ইটসলিং-এর কাজ করান। কিন্তু রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের এতই চাপ যে বর্তমানে নিজেদের অর্থায়নে করা ঐ ২কিলোমিটার ইট সলিং সড়কও আজ কাদার নিচে তলিয়ে গেছে।



বর্তমানে কটলীপাড়া থেকে শুরু করে বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটির মাত্র ১০ কিলোমিটার পিছঢালাই হলেও বাকি ২০কিলোমিটার সড়কে রয়েছে কাঁদা, গর্ত আর জনদুর্ভোগের এক মরণ ফাঁদ। বাদেপাশা ও শরীফগঞ্জের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিনই এ মরণফাদকে টপকে যাতায়াত করছেন শহর, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা স্থানীয় হাটবাজারে। এছাড়া ভোগান্তিতে পড়তে হয় অসুস্থ রোগীদের নিয়ে। রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াতে সুস্থ মানুষজনই যেখানে বিপর্যস্থ সেখানে অসুস্থ মানুষজন কেমন মারাত্মক পরিস্থিতির মাঝে পড়েন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।


আরোও পড়ুনঃ গোলাপগঞ্জে কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন


বাদেপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত কুশিয়ারা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদেরকেও প্রতিনিয়ত এ দুর্ভোগ ঠেলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।


ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ রজিউল্লাহ খান কুশিয়ারা নিউজকে জানান, আমাদের দায়িত্ব পালনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফাড়ি থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তাই যেন মরণদশায় পতিত হয়েছে।


বাগলা গ্রামের তরুণ সমাজসেবী মিজানুর রহমান কুশিয়ারা নিউজকে জানান, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে যে আমূল উন্নতি হয়েছে তা দেশকে ১০০বছর সামনে এগিয়ে নিয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অথচ কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী বৃহৎ অঞ্চলের একমাত্র সংযোগ সড়ক কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তাটি ২ যুগের বেশি সময়েও বাস্তব রূপ পায়নি। তারা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপির দেয়া নির্বাচনী ইসতেহার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এমপি মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ জানান।


বাদেপাশা ও শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশায় অসহয়নীয় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। দেশ যেখানে উন্নয়নের জোয়াড়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ রাস্তাটির উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না কেন তা'ই এখন জনমনে প্রশ্ন। 


বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ কুশিয়ারা নিউজকে বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এতদঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। তাই এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষজন যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা একেবারেই নাজুক। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতশত গাড়ি চলাচল করার কথা, সেখানে বর্তমানে পায়ে হেটে চলাই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ প্রায় ঘরবন্দি অবস্থায়ই দিনাতিপাত করছেন।  এমন পরিস্থিতিতে রাস্তাটির দ্রুত উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন।এরজন্য এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি ছাড়া এতো বৃহৎ অঞ্চলের প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। 



তিনি আরোও জানান, কিছুদিন পূর্বে এ রাস্তাটির কিছু অংশ জরিপ কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শীগ্রই রাস্তাটির কিছু অংশের উন্নয়নকাজ করার কথা রয়েছে। জনগুরুত্বের কথা বিবেচনায় রাস্তাটির উন্নয়নকাজ দ্রুত সময়ে করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


আরোও পড়ুনঃ গোলাপগঞ্জে কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন

Previous Post Next Post
>
>