৬০ ফুট উঁচু নারকেল গাছে উঠে অজ্ঞান গৃহবধূ!

৬০ ফুট উঁচু নারকেল গাছে উঠে অজ্ঞান গৃহবধূ!


৬০ ফুট উঁচু এক নারিকেল গাছে উঠে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের এক গৃহবধূ ।  গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেন।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির সামনের ৬০ ফুট উঁচু নারিকেল গাছে চড়ে বসেন ওই গৃহবধূ। কিন্তু গাছের ডগায় পৌছে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এসময় তার মাথা গাছের ডাগোরে (নারকেল গাছের ডাল) ঝুলে থাকাবস্থায় দেখেন গ্রামের মানুষ। 

এঘটনার খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ছুটে আসেন। এসময় দুজন সদস্য ঘাড়ে করে গাছ থেকে নামিয়ে আনেন তাকে। 

ওই নারী গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী তাছলিমা খাতুন (২২)। রাতেই ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। শুক্রবার সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখার জন্য এলাকার লোকজন ভিড় করেন হাসানের বাড়িতে। 

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জমির জামির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, গভীর রাতে ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভোরের দিকে তিনি বাড়ি চলে গেছেন। তিনি বলেন, মানসিক সমস্যার কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। 

এ ধরনের রোগীরা মানসিক শক্তি দিয়ে যে কোনো কাজ করতে পারে। গ্রামের মেয়ে, গাছে ওঠার অভ্যাস আগে থেকে থাকতে পারে। ওই নারী গাছে উঠেছেন মানসিক শক্তির জোরে। গ্রামের লোকজন কুসংস্কারবশত জিন-ভূতের আসর বলে প্রচার করে থাকেন। এর কোনো ভিত্তি নেই।

মহেশপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রমেশ কুমার সাহা জানান, ফায়ারম্যান শামিউল ইসলাম ও ড্রাইভার মামুনার রশিদ রশি বেঁধে পাশের ছাদে ওঠেন। এরপর নারকেল গাছে মই লাগানো হয়। ধীরে ধীরে রশি বেঁধে কাঁধে করে নামানো হয় তাকে। মাথায় পানি দেওয়ার কিছু সময় পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। 

মাঝে মাঝে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন বলে জানতে পেরেছেন তারা। স্বামী ও গ্রামবাসীর ধারণা, জিনের আসরের কারণে এমনটি করেন ওই গৃহবধূ।

Previous Post Next Post