রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমারের ‘ছায়া’ সরকার

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জোর করে ক্ষমতাসীন রয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা সরকার। এবার জান্তা সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে বৃহস্পতিবার (৩ জুন) পাঁচটি নীতিকৌশল প্রকাশ করেছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ঐক্য সরকার।

জান্তা সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করে সম্প্রতি দেশটির রাজনীতিবিদসহ বেসামরিক নাগরিকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে জাতীয় ঐক্য সরকার- এনইউজি। এর মধ্যে সু চির রাজনৈতিক দল এনএলডির সদস্যরাও রয়েছেন। তারা নিজেদের মিয়ানমারের বৈধ সরকার হিসেবে দাবি করছে। একইসঙ্গে বিশ্বের দরবারে সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা করছে তারা।

এনইউজি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নীতিকৌশলে ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ওই বিতর্কিত আইনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছিল। এবার এনইউজি সরকার আইনটি সংশোধন করে জানাচ্ছে, আইনটি সংশোধন করে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে জন্ম নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের সন্তানকে পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। বিবৃতিতে রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের নাগরিকদের এনইউজি সরকারের সঙ্গে যুক্ত হতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এনইউজি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর সহিংসতা ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গত কয়েক দশক ধরে রাখাইনে চলা সহিংসতায় লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হওয়ার বিষয়টি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছে জাতীয় ঐক্য সরকার। তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে সাড়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয়ে রয়েছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ চাপ দিলেও এ নিয়ে কার্যত কোনো কথাই কানে তুলছে না মিয়ানমার।