কোবরা সাপের কামড়ে মৃতপ্রায় রোগীকে বাঁচিয়ে তুললেন চিকিৎসকরা

কোবরা সাপের কামড়ে মৃতপ্রায় রোগীকে বাঁচিয়ে তুললেন চিকিৎসকরা



বিষাক্ত কোবরা সাপের (স্থানীয় ভাষায় জাতিসাপ) কামড়ে মৃতপ্রায় রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার পর সুস্থ ঘোষণা করেছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা। এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাপেকাটা রোগীকে সুস্থ করল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

সুস্থ হওয়া ওই রোগীর নাম মো. জসিম হাওলাদার(৩৫)। বুধবার (২ জুন) পাটক্ষেতে কাজ করতে গেলে সাপে কামড় দিলে তার দেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় এক ব্যক্তি তার স্বজনদের খবর দেন। স্বজনরা জসিমকে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।


প্রথমে নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেরাজ মজুমদার ওই রোগীকে চিকিৎসা দেন। পরে খবর পেয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বি এম রাইসুল সাইফ জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে আসেন এবং তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলতে থাকে। টানা দুই দিন চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুস্থ হয়ে ওঠেন জসিম।

ডা. মেহেরাজ মজুমদার বলেন, রোগী প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলেন। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে হচ্ছিল এবং প্যারালাইজড ছিল পুরো বডি। তাকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম এবং প্রথমবারে ১০টি ভায়াল দেয়া হয়। তাতেও যখন মনে হয়েছে আরও অ্যান্টিভেনম দরকার, তখন আরও চার ভায়াল দেয়া হয়। সর্বমোট ১৪ ভায়াল অ্যান্টিভেনমসহ আরও বেশ কিছু ইমার্জেন্সি মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে একটি মেডিসিন নড়িয়া উপজেলা পর্যায়ে না পাওয়ায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে আনা হয়।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ইমার্জেন্সি দরকারে যেন রোগীকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রোগী কিছুটা শঙ্কামুক্ত হন এবং শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। এখন রোগী সুস্থ আছেন এবং তাকে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে।


সুস্থ হয়ে ওঠা সাপেকাটা রোগী জসিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি পাটক্ষেতে নিড়ানির (আগাছা পরিষ্কার করা) কাজ করছিলাম।এমন সময় সাপ কামড় দেয়। আমি পা ঝাড়া দিলে সাপ ছিটকে পড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। আমি অসুস্থ হয়ে যাই। এরপর কী হয়েছে আমার মনে নেই। এখন আমি সুস্থ আছি।’

নড়িয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বি এম রাইসুল সাইফ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে যেকোনো রোগীর চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। সাপেকাটাসহ সব রোগী যাতে নির্ভয়ে এখানে আসেন সেটাই আমাদের কাম্য।’

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সফিকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ওই রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তারপরও আমরা তার চিকিৎসাসেবা শুরু করি। চিকিৎসাসেবা দেয়ার পরে রোগীর চেতনা ফিরে আসে। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
Previous Post Next Post
>
>