সিলেটে ভূমিকম্পঃ পরিদর্শন শেষে যা জানালো ঢাকার অনুসন্ধান কমিটি

সিলেটে ভূমিকম্পঃ পরিদর্শন শেষে যা জানালো ঢাকার অনুসন্ধান কমিটি


সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে দফায় দফায় আঘাত হানা ভূমিকম্প মানবসৃষ্ট নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান দফায় দফায় আঘাত হানা ভূ-কম্পনগুলো 
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।

ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিমত দেন তিনি।

আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণ অনুসন্ধানে আসা জাতীয় কমিটির সদস্যরা সিলেট ও আশপাশ এলাকা পরিদর্শন করে রোববার (১৩ জুন) এ ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন।

তবে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিবেন জাতীয় কমিটির সদস্যরা।

শনিবার (১২ জুন) সিলেটে আসা পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রোববার (১৩ জুন) সকালে গোলাপগঞ্জের কৈলাসটিলা গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করেন। এরপর তারা সিলেট আবহাওয়া অফিসে এসে ভূমিকম্পকালীন সময়ের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

পরে তারা সবশেষ ৭ জুন হওয়া ভূমিকম্পে ফাটল ধরা বন্দরবাজারের রাজা জিসি হাইস্কুলের কামরান ভবনটিও পরিদর্শন করেন। এরপর ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয় জাতীয় কমিটির এই বিশেষজ্ঞ দল।

ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণ অনুসন্ধানে সিলেটে আসা দলটির নেতৃত্বে ছিলেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রোডাক্ট শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) প্রকৌশলী মো. শাহীনুর ইসলাম।

এছাড়াও তদন্ত কমিটিতে ছিলেন বাপেক্সের একজন জিএম পর্যায়ের কর্মকর্তা, পেট্রোবাংলার একজন জিএম পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন অধ্যাপক।

অপরদিকে, অধিকতর তদন্ত ও ভূমিকম্পের আগে পরে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের একটি দল শিগগিরই সিলেটে আসছে বলে জানা গেছে।

গত ২৯ ও ৩০ মে সিলেটে আট বার ভূমিকম্প হয়। এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ডাউকি ফল্টের কাছাকাছি থাকা জৈন্তাপুর উপজেলায়।

পরে গত ৭ জুন সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে সিলেটে আবারও দুই দফায় যে ভূমিকম্প হয়েছে, সেগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটে ভূমিকম্প হলে উৎপত্তিস্থল সাধারণত ডাউকি ফল্টের আশপাশই হয়। কিন্তু এবার নতুন এক উৎপত্তিস্থল নতুন বিপদের শঙ্কায় ফেলছে।

তাদের মতে, সিলেটে দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা কোনো ফল্ট লাইন এখন সক্রিয় হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েছে। সেরকম কিছু হলে ভূমিকম্প সিলেটের জন্য আরও ভয়াবহ হয়ে দেখা দিতে পারে। তবে নতুন ফল্ট লাইনের সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

Previous Post Next Post