বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের প্রতিবাদে প্রজন্ম’৭১ যুক্তরাজ্য’র বিবৃতি

বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের প্রতিবাদে প্রজন্ম’৭১ যুক্তরাজ্য’র বিবৃতি



লন্ডন: মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্রিটেনে বাংলাদেশের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ সংগঠকদের বাদ দিয়ে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের প্রতিবাদ এবং সবার নিকট গ্রহণযোগ্য প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার একটি সম্পূর্ণ তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশের দাবি জানিয়েছে প্রজন্ম’৭১ যুক্তরাজ্য। 

সংগঠনের আহবায়ক মো: বাবুল হোসেন ও সদস্যসচিব এ কে এম আব্দুল্লাহ এক বিববৃতিতে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমন গঠনে এবং পাকিস্তানী সৈন্যদের গনহত্যা-নির্যাতনের বিপক্ষে বিশ্বে জনমত তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ব্রিটেনে পূর্ব বাংলার প্রবাসী বাঙালিরা।ব্রিটিশ এবং ভারতীয় মিডিয়ার মাধ্যমে ২৫শে মার্চের কালো রাতের নৃশংসতার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন, যে ক্ষোভ প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা দীর্ঘ নয় মাস ধরে সংগঠিত এক সফল আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।মুক্তি সংগ্রামে প্রবাসীদের আবদান বাঙ্গালী জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে। 

মহান মু‌ক্তিযু‌দ্ধে বি‌লে‌তের এই প্রবাসী বাংলা‌দেশীরা নিজের জন্মভুমির জন্য তা‌দের পুরো বেতন তু‌লে দি‌য়ে‌ছি‌লেন মু‌ক্তিযু‌দ্ধ সহায়তার ফা‌ন্ডে।বার্মিংহাম, ম্যানচেষ্টার, ওল্ডহামসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থে‌কে প্রতিদিন বাসে ক‌রে ক্ষুদ্ধ প্রবাসীরা অংশ নিতেন লন্ড‌নের ট্রাফেলগার স্কোয়ারের বি‌ক্ষো‌ভসহ নানা কর্মসূচীতে।

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী নারীরাও তখন অনন্য ভুমিকা রেখে ছিলেন।লন্ডনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে নারীরাও ব্যাপক মিছিল-মিটিংয়ের আয়োজন করেছিলেন। সেন্ট জেমস পার্ক থেকে মিছিল করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে সেদিন বাংলাদেশে গণহত্যার অবসান এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি সংম্বলিত  পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শাড়ি পরা নারীদের মিছিল পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।যা আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এমনকি পরণের স্বর্নালংকার,সংসার এবং সন্তা‌নের দু‌ধের পয়সা বাঁচিয়ে সেই টাকা মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে তু‌লে দি‌য়ে‌ছিলেন এখানকার শত শত গৃহবধূ।অথচ প্রকাশিত তালিকায় একজন সংগঠকেরও নাম উল্লেখ নেই। 

আমরা মনে করি যেহেতু বাংলা‌দে‌শের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অনেকদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন এবং  বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ট কন্যা শেখ রেহানা দীর্ঘদিন থেকে এদেশে বসবাস করছেন,তাঁদের নিশ্চয়ই জানা আছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কারা মু‌ক্তিযুদ্ধে কীভাবে সহযোগিতা করেছেন।মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্রিটেন প্রবাসীদের  কার কি অবদান রয়েছে। 

তাই তালিকাটি প্রনয়নে সরকার লন্ডনস্হ  বাংলাদেশ হাইকমিশন, মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকা রয়েছে এমন জীবিত ব্যক্তিবর্গ,  কমিউনিটির মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশিষ্ট  সবাইকে নিয়ে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরীর জন্য জোর দাবী জানান। এছাড়া তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ না করারও আহবান জানান তারা।

Previous Post Next Post