বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণেও ঘুস!

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণেও ঘুস!



নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা পরিষদে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব' ম্যুরাল নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. শহীদুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স সরদার ও হিসাবরক্ষক সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ২ সেপ্টেম্বর ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব' ম্যুরাল নির্মাণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। জেনিথ কন্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজটি পেয়েছে। গত মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কাজ চলাকালে মোট ৫ দিন ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। 

প্রতিটি ঢালায় কাজের দিন ১৫শ টাকা করে সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ম্যুরালের স্ল্যাব করার সময় ১৫ হাজার টাকা, সর্বশেষ ঢালাইয়ের সময় ১ হাজার টাকা এবং বিলে স্বাক্ষর করার সময় ১১ হাজার টাকা উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুস আদায় করে বিলে স্বাক্ষর করেন। 

অপরদিকে এলজিইডির হিসাবরক্ষক সাখাওয়াত হোসেন উপজেলা প্রকৌশলীর জন্য ৪ হাজার টাকা ঘুস নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর করানোর ব্যবস্থা করান। 
অভিযোগকারী ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজ শেষ করেছি। নির্মাণ কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স দফায় দফায় আমার কাছ থেকে ঘুস আদায় করেছেন। এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর হিসাবরক্ষক সাখাওয়াতের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা ঘুস নিয়ে বিলে স্বাক্ষর করেছেন। একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে এভাবে দফায় দফায় ঘুস নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাণীনগর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর বক্স সরদার বলেন, ঠিকাদার বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ কাজে অনিয়ম করেছিল। শতভাগ কাজ করে নেওয়ায় তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডির হিসাবরক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি এমন লোক না। তাদের কাছ থেকে কোনো ঘুস নেইনি। তারা মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. শহীদুল হক কোনো মন্তব্য না করে এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন।


এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কথা বলতে রাজি হননি।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে তদন্তের জন্য আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অফিসে আসতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Previous Post Next Post
>
>