ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারঃ সেলিম উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন

ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারঃ সেলিম উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন


গোলাপগঞ্জের উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের খাগাইল গ্রাম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা সেলিম উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার)  বাদ সন্ধ্যায় আছিরগঞ্জ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

তার জানাজার নামাজে আছিরগঞ্জ এবং বৃহত্তর কুশিয়ারা পাড়ের রাজনৈতিক, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী সাংবাদিক ও বিভিন শ্রেণীপেশার সহস্রাধিক মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।



আরও পড়ুনঃ আছিরগঞ্জের পরিচিত মুখ সেলিম উদ্দিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

এর আগে গতকাল (বুধবার) সকালে খাগাইল গ্রাম থেকে সেলিম উদ্দিনের (৪৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেলিম উদ্দিনের বাড়ী থেকে প্রায় ২ শত ফুট দূরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পিছনে তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। 

তবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এলাকাবাসী বলছেন বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। সেলিম উদ্দিনের ভাই নাজিম উদ্দিন এ ঘটনার তদন্তপূর্বক সুষ্টু বিচার দাবী করেন।

আরও পড়ুনঃ সেলিম উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের

নাজিম উদ্দিন জানান, খাগাইল গ্রামের আখলুছ হাজীর বাড়িতে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করতেন সেলিম উদ্দিন। বেশ কিছুদিন থেকে একটি মহল প্রবাসী আখলুছ হাজীর বাড়ির কেয়ারটেকারের দায়িত্ব থেকে তাকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। সম্প্রতি তিনি সেখান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গত ৩/৪দিন আগে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তিনি সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসেন। কিন্তু দায়িত্ব ছাড়লেও একটি মহল তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সেই আতঙ্কে তিনি বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দেন, এমনকি রাস্তাঘাটেও বের হতেন না। আতঙ্কে নিজের সিগারেট পর্যন্ত ছোট ভাইকে দিয়ে বাজার থেকে আনাতেন।

এঘটনায় নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নং-০৭/১৪.০৭.২০২১) দায়ের করেছেন।

এব্যাপারের গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, সেলিম উদ্দিন নিহতের ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্ত কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাধারণত ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসতে এক সপ্তাহ সময় লাগে। রিপোর্ট আসার পর এ ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে এলাকাবাসীর বিশ্বাস।

Previous Post Next Post