যুদ্ধ শুরুর বছর জন্ম মার্কিন সেনার, যুদ্ধ শেষে কাবুলেই মৃত্যু

যুদ্ধ শুরুর বছর জন্ম মার্কিন সেনার, যুদ্ধ শেষে কাবুলেই মৃত্যু



আন্তর্জাতিকঃ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আইএস বোমা হামলা করে। এই হামলায় নিহতদের বিষয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামি স্টেট (আইএস) এর খোরাসান শাখার ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাসহ ১৭০ জনের অধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তাদের সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখার একজন সদস্যও রয়েছে। 


এই হামলায় নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কাঠমিস্ত্রি স্টিভ নিকভির ছেলে ল্যান্স কর্পোরাল কারিম। 

শোকে বিহ্ববল এই বাবা বলেন, যা ঘটেছে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। যুদ্ধ শুরুর বছর ( ২০০১ সালে) কারিম জন্ম গ্রহণ করেছিল, যুদ্ধ শেষেই মারা গেল!

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় গণমাধ্যম ডেইলি বিস্টের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখনও নিহত ১৩ সেনার নাম প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১০ জন মেরিন সেনা, দুইজন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং নৌবাহিনীর একজন কর্পোরাল রয়েছেন। 

নিহত মেরিন সেনা কারিমের বাবা স্টিভ বলেন, কাবুলে বোমা হামলায় যেসব মেরিন নিহত হয়েছে তাদের পরিবারের সঙ্গে আট ঘণ্টার মধ্যেই যোগাযোগ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কারিমের মৃত্যুর সংবাদ দিতে মেরিন সেনারা তাদের বাড়ি আসেন। 


স্টিভ নিকভি বলেন, যারা খবর দিতে এসেছিল আমার থেকেও তারা বেশি কাঁদছিল। তাদেরকে আমি শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। 

ছেলে হারানো এই বাবা বলেন, আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। যা ঘটেছে তা আমি কিছুতেই মানতে পারছি না। কারিমের দেহাবশেষ আনতে তিনি ডেলোয়ার প্রদেশে যাবেন বলেও জানান।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান ছিনতাই করে হামলা করে। এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তৎকালীন তালেবান সরকারকে উৎখাত করে। কিন্তু গত বছর সেই তালেবানের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র আবার সমঝোতা করে। আর সেই পটভূমিতেই আফগানিস্তান থেকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সকল বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কিন্তু বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের শেষ সময়ে কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়।
Previous Post Next Post
>
>