Saturday, 12 June 2021

সিলেটে ছাত্রলীগ পরিচয়ে পুলিশকে মারধর, আটক ২

সিলেটে ছাত্রলীগ পরিচয়ে পুলিশকে মারধর, আটক ২

সিলেটে ছাত্রলীগ পরিচয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে মারধর করেছেন সৌরভ চৌধুরী নামের এক যুবক। শনিবার (১২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে সৌরভ চৌধুরী ও তার সহযোগীকে আটক করে কোতয়ালি থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চারদিকের সড়কেই গাড়ির দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। এসময় ট্রাফিক সার্জেন্ট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দুদিকের গাড়ি বন্ধ করে অপর দুদিকের গাড়ি ছাড়েন। কিন্তু ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ সার্জেন্টের সিগন্যাল অমান্য করে মোটরসাইকেল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে জসিম উদ্দিন বাধা দেন।

এসময় সৌরভ উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগ করি। ফোন দিলে তর অবস্থা বেহাল হবে’ একথা বলে ট্রাফিক সার্জেন্টের দিকে তেড়ে গিয়ে মারধর শুরু করে। এতে ট্রাফিক সার্জেন্ট জসিম বেশ আহত হন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার একদল পুলিশ দ্রুত চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে সৌরভ ও তার সহযোগীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ট্রাফিক সার্জেন্ট জসিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

গ্রেপ্তার সৌরভ সিলেটের টুকেরবাজার এলাকার পীরপুর গ্রামের সন্তোষ ঘোষের ছেলে। তিনি নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় ট্রাফিক সার্জেন্ট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করছেন বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগকর্মী পরিচয়দানকারী সৌরভ নামে এক যুবক ট্রাফিক সার্জেন্ট জসিমকে বেধড়ক মারধর করেছে। তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করছেন বলেও জানান তিনি।

বৃটিশরা কেন ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার স্থাপন করেছিল? জানুন এর আসল রহস্য!

বৃটিশরা কেন ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার স্থাপন করেছিল? জানুন এর আসল রহস্য!

বৃটিশদের ম্যাগনেটিক পিলার।

দেশের মাটিতে পুঁতে থাকা ম্যাগনেটিক পিলার নিয়ে যেন রহস্যের শেষ নেই। অনেকে এগুলোকে মহামূল্যবান সম্পদ ভেবে ভূল করে বসে। নানানজনের নানান মত। অনেক গুজব ও জনশ্রুতি আছে এই প্রাচীন ‘ম্যাগনেটিক’সীমানা পিলার স্থাপন নিয়ে। কেউ কেউ এটিকে প্রাচীন মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার বলে আখ্যায়িত করেন। আবার কেউ কেউ বলছেন এর মাধ্যমে বৃটিশরা এদেশের সব গোপন তথ্য চুরি করে নিয়ে যায়।


তবে আসল ঘটনা হচ্ছে- এদেশে বৃটিশ শাসনামলে পিলারগুলোকে ফ্রিকুয়েন্সি অনুযায়ী একটি থেকে আরেকটির দুরত্ব মেপে মাটির নীচে পুতে রাখা হয়েছিলো। যেগুলোর মধ্যে পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়ামসহ ধাতব চুম্বক রয়েছে। এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কারনে বজ্রপাতের সময়ে ইলেকট্রিক চার্জ সরাসরি এই পিলারগুলো শোষন করে আর্থিং এর কাজ করতো। আর এতে করে বজ্রপাতের সময় মানব সভ্যতা ছিলো সুরক্ষিত।

কিন্তু কিছু অসাধু লোক ওই পিলারগুলোকে উচ্চ দামে বিক্রি করা যায় এরকম গুজব ছড়িয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ কারনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পিলারগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। 

পিলারগুলোর তামা পিতল, টাইটেনিয়াম জাতীয় ধাতবের সমন্বয়ে তৈরী বলে এগুলো বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। তাই এগুলো মহামুল্যবান বলে অপপ্রচারের ফলে এসব পিলার চুরি হতে থাকে। বর্তমানে বেশিরভাগ পিলারই গুজবে কান দেয়া মানুষজন উঠিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ পিলারগুলো থেকে উচ্চ মূল্যের অর্থ উপার্জনের আশায় সর্বশান্ত হয়েছেন অনেকেই। কোটি টাকা উপার্জনের আশায় লাখ লাখ টাকা ইনভেস্ট করে দিনশেষে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। 

অথচ এগুলোর আসল রহস্য হচ্ছে বৃটিশরা বজ্রপাত রোধের জন্য এ প্রযুক্তির পিলারগুলো সারা দেশজুড়ে মাটির নিচে পুতে রেখেছিল। যা একটি নির্দিষ্ট দুরত্ব পর পর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে মেপে স্থাপন করে হয়েছিল। বর্তমানে যেমনটা মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানোর সময় একটা থেকে আরেকটার দুরত্ব আর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে ম্যাপ করে বসানো হয়।

এজন্য আগেকার সময়ে বজ্রপাতে নিহত হওয়ার সংখ্যা ছিল নিতান্তই নগণ্য। যা এখন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাই বজ্রপাতে মৃত্যু রোধকল্পে সরকারকে বৃটিশদের মতো করে পিলার স্থাপনের উদ্যোগ আবার গ্রহণ করা উচিৎ বলেও মতামত দিচ্ছেন অনেকে।

চার ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব

চার ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব


মাঠে অশোভন আচরণের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটার এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মোহামেডানের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। মোহামেডানের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান এ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেন মিডিয়ার কাছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার মিরপুরে আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে আউট না দেয়ার প্রতিবাদে লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান। এছাড়া ক্ষিপ্ত হয়ে এসে তিনটি স্ট্যাম্পই তুলে নিয়ে মাটিতে আছাড় মারেন তিনি। এমন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের কারণে সাকিবকে কী শাস্তি দেয়া হয়, সে দিকে তাকিয়ে ছিল সবাই।

অবশেষে ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ নিয়ন্ত্রক কমিটি সিসিডিএমের (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ) পক্ষ থেকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি আরোপ করা হলো বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ওপর।

ঢাকার মাঠে আবাহনী-মোহামেডান মানেই উত্তেজনা। সেটা যে খেলাতেই হোক। শুক্রবার মিরপুরে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়াতেও ছিল উত্তেজনার পরশ। কিন্তু মাঠে আম্পায়ারের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের অসদাচরণের কারণে সেই উত্তেজনা ভিন্ন একটি পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়।

একই সঙ্গে সাকিব এবং আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের একে অপরের দিকে তেড়ে যাওয়ার ঘটনাও বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ড্রেসিংরুমে গিয়ে সুজনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন সাকিব। এরপর আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কৃত অপকর্মের জন্য ভক্ত-সমর্থকদের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন মোহামেডান অধিনায়ক।

কদিন আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের জৈব সুরক্ষাবলয় ভেঙেও ক্ষমা চেয়েছিলেন সাকিব। এর আগেও ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের একাধিকবার শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা আছে। সেগুলোর জন্য তিনি বিভিন্ন সময় শাস্তিও পেয়েছেন।

সিলেট ৩ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেলেন হাবিবুর রহমান

সিলেট ৩ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেলেন হাবিবুর রহমান


সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।

আজ শনিবার (১২ জুন) সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তে তাঁকে এ মনোনয়ন প্রদান করা হয়।

এ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন ২৫ জন নেতা।

আগামী ২৮ জুলাই সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, শূন্য হওয়া তিন আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমার শেষ তারিখ ১৫ জুন। ১৭ জুন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৩ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।

যে শাস্তি হতে পারে শাকিবের

যে শাস্তি হতে পারে শাকিবের



ক্রীড়া ডেস্কঃ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) শুক্রবার (১১ জুন) আবাহনীর বিপক্ষে ঘটনাবহুল ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত সাকিবের মোহামেডান জিতেছে ৩১ রানে। তবে সেই জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আলোচনায় সাকিব আল হাসান। এদিন বিশ্বসেরার অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত সবাই।

মুশফিককে এলবিডব্লু  না দেওয়ায় লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙা কিংবা বৃষ্টির আগেই আম্পেয়ারের খেলা বন্ধের সিদ্ধান্তে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলা। সবই হয়েছে আবাহনী মোহামেডান ম্যাচে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গেও জড়িয়েছেন বাদানুবাদে। যদিও পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সাকিব।

তবুও সাকিবের এমন অস্বাভাবিক আচরণের ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিসিডিএম। ম্যাচের দুই আম্পায়ার ইমরান পারভেজ ও মাহফুজুর রহমান এবং ম্যাচ রেফারি মোরশেদুল আলমের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে সিসিডিএম।
ম্যাচ শেষে বিসিবি পরিচালক ও সিসিডিএম প্রধান কাজী ইনাম বলেছেন, খেলার মাঠে অনেক কিছুই হয়। আজ আবাহনী-মোহামেডানের খেলা ছিল এবং এখানে বেশ উত্তেজনা ছিল, কিছু ঘটনাও ঘটেছে। সাকিব আল হাসানকে আমরা দেখতে পেয়েছি। এটা ফেসবুক লাইভ এবং ইউটিউব লাইভেও ছিল। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ম্যাচ রেফারির দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হবে সাকিবের শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত।

কাজী ইনাম বলেন, ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে উত্তপ্ত একটি মুহূর্ত এসে যেতে পারে। কিন্তু আমরা আশা করি, সবসময় খেলোয়াড় তাদের মেজাজ ধরে রাখবে। যাই হোক, এটা স্বীকৃত ম্যাচ, এখানে নিয়ম আছে। ম্যাচ রেফরি, আম্পায়ারা একটা প্রতিবেদন দেবেন। নিয়ম ভাঙলে কী হয়, সেটাও সবাই জানে। আম্পায়াররা যদি আচরণবিধির লেভেল টু লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, তাহলে শাস্তি হবে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অথবা এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানা। আর যদি লেভেল ফোর ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা হবে কমপক্ষে পাঁচ ম্যাচের।

সিসিডিএম প্রধান আরও বলেন, ক্রিকেটে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কখনও তার সিদ্ধান্ত আপনার পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু খেলাটা তো চালিয়ে যেতে হবে। আমি জানি না সিদ্ধান্ত কী ছিল তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ম্যাচের মধ্যে অনেক সময় কোনো কারণে খেলোয়াড় উত্তেজিত হয়ে যেতেই পারে, কিন্তু তাদের সবার বিশেষ করে সিনিয়র খেলোয়াড়দের অবশ্যই মেজাজ ধরে রাখতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকের ম্যাচে সেটা হয়নি।

Friday, 11 June 2021

বাদেপাশা-শরীফগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগের নাম কটলীপাড়া-বসন্তপুর সড়ক

বাদেপাশা-শরীফগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগের নাম কটলীপাড়া-বসন্তপুর সড়ক


গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা-শরীফগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর চরম দুর্ভোগের আরেক নাম কটলীপাড়া-বসন্তপুর সড়ক। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে যে সড়কটি নিয়ে দুর্ভোগের অবসান ঘটেনি এ দুই ইউনিয়নবাসীর। সড়কটির বাদেপাশা ইউনিয়নের বাগলা গ্রাম থেকে শুরু করে শরীফগঞ্জের বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশা দেখলে গাঁ শিউরে উঠবে যে কারো। মনে হবে এটি যেন বাংলাদেশ থেকে ছিটকে পড়া কোন ছিটমহলের সংযোগ সড়ক। অথচ সড়কটি উন্নয়নশীল বাংলাদেশের কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম। যা সংযোগ স্থাপন করেছে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও ফেঞ্চুগঞ্জ- এ চার উপজেলাকে।


আরোও পড়ুনঃ গোলাপগঞ্জে কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন



১৯৯৬ সালে বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কটলীপাড়া থেকে শুরু করে শরীফগঞ্জের বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটির মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য নরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। অথচ দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময়েও বাস্তব রূপ পায়নি বৃহৎ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সংযোগ সড়কটি।


২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় গেলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এ রাস্তাটির অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এবং যথারীতি বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কটলিপাড়া থেকে বাদেপাশা ইউনিয়নের মোল্লাকোণা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তার পিচঢালাই সম্পন্ন করেন। কিন্তু এর পরেই থমকে যায় রাস্তাটির উন্নয়নকাজ।


রাস্তাটি উন্নয়নবঞ্চিত অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর ভোগান্তি লাগবে নিজেরাই রাস্তাটির উন্নয়ন ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নেন বাগলা গ্রামের প্রবাসী ও স্থানীয়রা। গ্রামবাসীরা মিলে ২০১৭ সালে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মোল্লাকোণা থেকে বাগলা বাজার পর্যন্ত ২কিলোমিটার সড়কে ইটসলিং-এর কাজ করান। কিন্তু রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের এতই চাপ যে বর্তমানে নিজেদের অর্থায়নে করা ঐ ২কিলোমিটার ইট সলিং সড়কও আজ কাদার নিচে তলিয়ে গেছে।



বর্তমানে কটলীপাড়া থেকে শুরু করে বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটির মাত্র ১০ কিলোমিটার পিছঢালাই হলেও বাকি ২০কিলোমিটার সড়কে রয়েছে কাঁদা, গর্ত আর জনদুর্ভোগের এক মরণ ফাঁদ। বাদেপাশা ও শরীফগঞ্জের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিনই এ মরণফাদকে টপকে যাতায়াত করছেন শহর, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা স্থানীয় হাটবাজারে। এছাড়া ভোগান্তিতে পড়তে হয় অসুস্থ রোগীদের নিয়ে। রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াতে সুস্থ মানুষজনই যেখানে বিপর্যস্থ সেখানে অসুস্থ মানুষজন কেমন মারাত্মক পরিস্থিতির মাঝে পড়েন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।


আরোও পড়ুনঃ গোলাপগঞ্জে কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন


বাদেপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত কুশিয়ারা পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদেরকেও প্রতিনিয়ত এ দুর্ভোগ ঠেলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।


ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ রজিউল্লাহ খান কুশিয়ারা নিউজকে জানান, আমাদের দায়িত্ব পালনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফাড়ি থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তাই যেন মরণদশায় পতিত হয়েছে।


বাগলা গ্রামের তরুণ সমাজসেবী মিজানুর রহমান কুশিয়ারা নিউজকে জানান, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে যে আমূল উন্নতি হয়েছে তা দেশকে ১০০বছর সামনে এগিয়ে নিয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অথচ কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী বৃহৎ অঞ্চলের একমাত্র সংযোগ সড়ক কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তাটি ২ যুগের বেশি সময়েও বাস্তব রূপ পায়নি। তারা সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপির দেয়া নির্বাচনী ইসতেহার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে এমপি মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ জানান।


বাদেপাশা ও শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশায় অসহয়নীয় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। দেশ যেখানে উন্নয়নের জোয়াড়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ রাস্তাটির উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না কেন তা'ই এখন জনমনে প্রশ্ন। 


বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ কুশিয়ারা নিউজকে বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এতদঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। তাই এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষজন যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা একেবারেই নাজুক। যে রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতশত গাড়ি চলাচল করার কথা, সেখানে বর্তমানে পায়ে হেটে চলাই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ প্রায় ঘরবন্দি অবস্থায়ই দিনাতিপাত করছেন।  এমন পরিস্থিতিতে রাস্তাটির দ্রুত উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন।এরজন্য এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি ছাড়া এতো বৃহৎ অঞ্চলের প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। 



তিনি আরোও জানান, কিছুদিন পূর্বে এ রাস্তাটির কিছু অংশ জরিপ কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শীগ্রই রাস্তাটির কিছু অংশের উন্নয়নকাজ করার কথা রয়েছে। জনগুরুত্বের কথা বিবেচনায় রাস্তাটির উন্নয়নকাজ দ্রুত সময়ে করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


আরোও পড়ুনঃ গোলাপগঞ্জে কটলীপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন

Thursday, 10 June 2021

পেছালো সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন!

পেছালো সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন!

আগামী ১৪ জুলাই সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ১৪দিন পিছানো হয়েছে। আগামী ২৮জুলাই এ আসন-সহ ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ সংসদীয় শূন্য আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইইডিসিআর ও স্থানীয় পর্যায়ে সুপারিশের প্রেক্ষিতেই এ তিন সংসদীয় শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানায় কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদের সিলেট-৩, ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ আসনে ১৪ জুলাই ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন হলেও অন্যান্য কার্যক্রম তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, শূন্য হওয়া তিন আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমার শেষ তারিখ ১৫ জুন। ১৭ জুন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৩ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।