Tuesday, 29 June 2021

লুয়টের সভায় আং ওহাব খান'র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত

লুয়টের সভায় আং ওহাব খান'র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত



করোনা মহামারিজনিত কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বৎসর ভার্চুয়াল মিটিংয়ের পর প্রথমবারের মত গত রবিবার (২৭ জুন) নির্বাহী সদস্যদের সশরীরে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ট্রাষ্টের সহ সভাপতি আব্দুল বারী আযাদের বার্মিংহামস্থ বাসভবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে অনুষ্ঠিত হয় কার্যকরী কমিটির সভা। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাষ্টের সভাপতি মনসুর আহমেদ। 


আশরাফুল হক খান রুমানের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পরপরই সেক্রেটারি আব্দুল কুদ্দুস খান সভার আলোচ্যসূচী ও বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে শোনান। এরপর একে একে আলোচনায় অংশ নেন বদরুল হক চৌধুরী মালেক (উপদেষ্টা), কামরান আহমেদ সিকন্দরী, মামুনুল হক সাজু, নূরুস সুফিয়ান চৌধুরী, আব্দুল হাফিজ ফজলু, সিরাজুল গোফরান চৌধুরী, সাহেদুর রহমান, মাহমুদুল হাসান রাসেল, আলী হোসেন লয়লু, আবু হানিফ, সুরমান মিয়া, সমসু মিয়া(ট্রাস্টি) প্রমুখ। 

দীর্ঘ আলোচনাশেষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তসমূহ হল-

১) চার সপ্তাহের মধ্যে যাকাত ফান্ডের অর্থে দুটি ট্রাক্টর দুই গরীব কৃষকের নিকট হস্তান্তর ২)যাকাত ফান্ডে উত্তোলিত অর্থে জাফরাবাদ,বিবিদইল, খুজখালু গ্রামের তিনটি দুঃস্থ পরিবারের জন্য তিনটি গৃহনির্মাণ কাজের যথাশীঘ্র  আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৩)ট্রাস্টিদের নিয়ে ইউকে অথবা ইউকের বাইরে আনন্দ ভ্রমণ ৪) ৫ম লুয়েট ব্যডমিন্টন ট্যুর্নামেন্ট আগষ্ট,২০২১-এ আয়োজন ৫) তাৎক্ষণিক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ এক ব্যক্তির চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা অনুদান।


এ ছাড়াও সভায় সদ্য প্রয়াত ইউনিয়নের প্রবীণ মুরব্বি বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সালিশ ব্যক্তিত্ব জনাব আব্দুল ওহাব খান (খোকা খা)’র মৃত্যুতে লালাবাজার ইউনিয়ন এডুকেশন ট্রাস্ট, এর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশপূর্বক তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সহ সভাপতি সাহেদুর রহমান। 


উল্লেখ্য, একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভার বিশেষ আকর্ষণ ছিল আব্দুল বারী আযাদের পরিবার কর্তৃক নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন পদের মজাদার ও মুখরোচক সব খাবার। সভাপতি মনসুর আহমেদসহ সভায় উপস্থিত সবাই আং বারী আযাদের এ বিশাল আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে উক্ত সভার স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মনসুর আহমেদ আং বারী আযাদের হাতে তুলে দেন।পরে  সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সালিসে কিশোরীকে বিয়ে, আলোচিত সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত

সালিসে কিশোরীকে বিয়ে, আলোচিত সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত


সালিস বৈঠকে কিশোরীকে বিয়ে করা আলোচিত সেই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সোমবার (২৮ জুন) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। লিখত অফিস আদেশ এখনও হাতে পাইনি।

জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. রমজান (২৫) একই ইউনিয়নের চুনারপুল এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি মেয়েটির বাবা। তিনি বিষয়টি কনকদিয়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই যুবক ও কিশোরীর বিয়ে দেওয়ার কথা বলে কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। সে অনুযায়ী গত শুক্রবার সকাল ৯টায় দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। 

সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান। মেয়ের বাবা এতে রাজি হলে বিকেলেই কাজি ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মেয়েটিকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। বিয়ের কাবিন নামায় মেয়েটির জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে দেওয়া জন্মনিবন্ধন ও পিএসসি পাসের সনদ অনুযায়ী মেয়েটির জন্মতারিখ ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল। বিয়ের পর মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। তবে বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না।

বিয়ের পর দিন শনিবার (২৬ জুন) কিশোরী নসিমন বেগম (১৪) চেয়ারম্যানকে তালাক দেন। এরপর সোমবার (২৮ জুন) সকালে প্রেমিক রমজান হাওলাদারের বড় ভাই হাফেজ মো. আল ইমরান বাদী হয়ে হাওলাদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলি আদালতে মামলা করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার স্ত্রী আছে। সেই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেকেও বিয়ে দিয়েছেন।

সকল ইউপি নির্বাচন স্থগিত, দায়িত্বে থাকবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই

সকল ইউপি নির্বাচন স্থগিত, দায়িত্বে থাকবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই



করোনা ভাইরাসের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই দায়িত্বে থাকবেন।

সোমবার (২৮ জুন) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

গত ৩ মার্চ প্রথমধাপের ৩৭১টি ইউপির তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট হওয়ার কথা ছিলো ১১ এপ্রিল। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে গত ৩ জুন ভোটের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে ২১ জুন করা হয়।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোভিড পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ১৬৭টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়। বাকি ২০৪টি ইউপিতে গত ২১ জুন ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

Monday, 28 June 2021

ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ১৭৮ অভিবাসন প্রত্যাশী উদ্ধার, মৃত ২

ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ১৭৮ অভিবাসন প্রত্যাশী উদ্ধার, মৃত ২


ভূমধ্যসাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় বাংলাদেশিসহ ১৭৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী। রোববার তিউনিসিয়া উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। ওই সময় উদ্ধার করা হয়েছে দুজনের মরদেহ। উদ্ধারদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। যারা নৌকায় অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। উদ্ধার অন্যরা হলো ইরিত্রিয়া, মিসর, মালি ও আইভরি কোস্টের নাগরিক।

পরে তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ যেকরি জানান, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপ যাচ্ছিল। পথে তাদের নৌকা ভেঙে যায় এবং সেটি ডুবে যেতে থাকে। পরে সংকেত পেয়ে তিউনিসিয়া নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

এর আগে গত ২৫ জুন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থা থেকে ২৬৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তিউনিসিয়া কোস্টগার্ড জানায়, ২৬৪ বাংলাদেশি ও তিন মিসরীয় নাগরিকসহ ২৬৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী একটি নৌকায় অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপ যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে নৌকাটি বিকল হয়ে গেলে বিপদে পড়েন তারা।

এরপর এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদেন বন্দরে পৌঁছাতে সাহায্য করে দেশটির নৌবাহিনী। পরে তাদের আইওএম এবং রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেয়া হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপের পথে যাত্রা করে। এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ৭০ ভাগ বেশি।

সুরমা-কুশিয়ারা'সহ সিলেটের ৭৮টি নদী-খাল খননের উদ্যোগ

সুরমা-কুশিয়ারা'সহ সিলেটের ৭৮টি নদী-খাল খননের উদ্যোগ



সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেট জেলার ৭৮টি ছোট-বড় নদ-নদী ও খাল খনন করার উদ্যোগ নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেয় হয়েছে।

সিলেট জেলার প্রধান নদী সুরমা-কুশিয়ারাসহ ছোট-বড় নদী ও খালগুলো নাব্যতা হারিয়ে বিপন্নের পথে। নদী ভরাটের কারণে বোরো চাষীরা হাহাকার করেন ওই মৌসুমে। সুরমা-কুশিয়ারা এখন যৌবনহারা। এমনকি ভাঙনের কবলে বদলে গেছে সিলেটের কয়েকটি অঞ্চলের মানচিত্র।

সিলেটের নদ-নদী ও খালসমূহ অতীতে একাধিবার খননের উদ্যোগ নিয়েও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কিছুদিন আগে সিলেটের নদ-নদী ও খালসমূহের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্রুত খনন করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রেরণ করেন।

প্রেরিত ডিও লেটার প্রাপ্তির পর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি টিম নদী ও খালগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে কানাইঘাট উপজেলার নকলা ও জৈনকা খাল খনন করা হয়। এছাড়াও বাকি ৭৬টি নদী ও খাল দ্রুত খননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। বিষয়টি গত ২৪ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে জানান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি।

উল্লেখ্য, সিলেটে পানির বড় উৎস সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। এই দুই নদীর নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে অন্যান্য নদী এবং খালের মাছ ও জলজ উদ্ভিদও মরে যাচ্ছে। ২১৭ মাইল দীর্ঘ সুরমা নদী বিভিন্নস্থান এখন ভরাট। এক সময় এসব নদী দিয়ে চলাচল করত পণ্যবাহী জাহাজ। যা এখন কল্পনাও করা যায় না। নৌকা চালালেও আটকে যায় বিভিন্ন স্থানে। সুরমা-কুশিয়ার ছাড়াও সিলেটের অন্যান্য নদী এবং খালও নাব্যতা হারিয়ে আজ বিপন্ন প্রায়।

সিলেট জেলার উপজেলাগুলোতে প্রবাহমান নদীগুলো হচ্ছে- সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, সারী, পুরকচি, কাপনা, ডাকসা, বাসিয়া, বড়রাখা, বেটুয়া, জুরী, সোনাই, বড়গাং, ধামাই, ক্ষেপা, কাটা, মরাকাপনা, বড়ডারগা, ধলাই, বাজাসিং, মাকুন্দ, কাপনা, ব্রাক্ষণা, হাটখোলা ও কুড়া নদী।

শ্বশুরবাড়ি থেকে আম-কাঁঠাল কম দেয়ায় স্ত্রীকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

শ্বশুরবাড়ি থেকে আম-কাঁঠাল কম দেয়ায় স্ত্রীকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম



শ্বশুরবাড়ি থেকে মৌসুমি ফল আম-কাঁঠাল কম দেয়ায় স্ত্রীকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে পাষণ্ড এক স্বামী। এ ঘটনায় সোমবার (২৮ জুন) অভিযুক্ত স্বামী এয়াকুবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে রোববার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের সাতকুচিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার এয়াকুব আলী সাতকুচিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানায়, পাঁচ বছর আগে এয়াকুব আলীর সঙ্গে উত্তর চন্দনা এলাকার ফারজানা আক্তার সুমির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলেসন্তান রয়েছে। কিছুদিন ধরে এয়াকুব তার স্ত্রীর পরিবারের কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। এয়াকুব মাদকাসক্ত। রাতে নেশা করে এসে প্রায়ই স্ত্রী ফারজানাকে মারধর করতেন। রোববার বিকেলে ফারজানার বাবার বাড়ি থেকে মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল ও আনারস পাঠানো হয়। পরিমাণে কম দেয়া হয়েছে অভিযোগ এনে স্ত্রীকে রড দিয়ে পেটান এয়াকুব। এতে ফারজানা মারাত্মক আহত হন। তাৎক্ষণিক স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ফারজানা আক্তার জানান, এয়াকুব নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং প্রায়ই তাকে মারধর করেন। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বসলেও তিনি সংশোধন হননি।

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রোকসানা সুরাইয়া জানান, ফারজানার মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. খালেদ দাইয়ান জানান, স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় এয়াকুবকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ৫২কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ৫২কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা



নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য প্রায় সাড়ে ৫২ কোটি ২লাখ ৪৫ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ জুন) দুপুর ১টায় গোলাপগঞ্জ পৌর মিলনায়তনে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি, পৌর কাউন্সিলর ও নাগরিকদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত বাজেট পেশ করেন পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল। 

বাজেটে আগামী ২০২১-২২অর্থবছরে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৫২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এরমধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪কোটি ৩৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ৪কোটি ৩৬লক্ষ ৫হাজার টাকা। উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৫০হাজার টাকা। বাজেটে সার্বিক উদ্ধৃত ধরা হয়েছে ৪৭ লক্ষ ৭৮হাজার ৩২৭ টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল বলেন, ঘোষিত বাজেট জনবান্ধব এবং পৌরবাসীর কল্যাণকর। ইচ্ছে ছিলো বড় পরিসরে বাজেট অনুষ্ঠান করবো কিন্তু করোনা ভাইরাস সংকটের কারণে স্বল্প পরিসরে করতে হচ্ছে। 

আমি মেয়র হওয়ার পর থেকেই পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভায় রুপান্তরিত করতে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে পৌরসভায় নতুন নতুন রাস্তাঘাট, ড্রেইন নির্মাণ, সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনেও পৌরবাসী আমার উপর আস্থা রেখে আমায় আমারো তাদের মূল্যবান রায় দিয়ে নির্বাচিত করেছে। আমি পৌর বাসীর আমানত রক্ষা করে চলছি।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই পৌর পরিষদ জনগণের পাশে রয়েছে। বিভিন্ন সময় সরকারী বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা অসহায় কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বাজেট অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলালালুজ্জামান হেলাল, পৌর কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খান, ছাত্রলীগ নেতা সাকিল হোসেন।  

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব নিকুঞ্জ ব্যানার্জী, পৌর কাউন্সিলর এম ফজলুল আলম, জবান আলী, ফারুক আলী, জাহেদ আহমদ, নজরুল ইসলাম, মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা ফেরদৌস, মেহেরুন বেগম, শেফা বেগম , সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোসাররফ হোসেন, হিসাব রক্ষক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারী সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।