Saturday, 10 July 2021

কোপা'য় কে হবে শিরোপা জয়ীঃ দেখুন হাতি ও মাকড়সার ভবিষ্যদ্বাণী

কোপা'য় কে হবে শিরোপা জয়ীঃ দেখুন হাতি ও মাকড়সার ভবিষ্যদ্বাণী


স্পোর্টস ডেস্কঃ ১৪ বছর পর কোপার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। মেগা ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এ দুটি দলের চমক দেখতে প্রহর গুনছেন ফুটবল প্রেমিরা। কে হবেন শিরোপা জয়ী এমন সমীকরণ মিলাতে ব্যস্ত রয়েছেন তারা। শুধু কী তাই? খেলাধুলার বড় কোনো আসর আসলেই মানুষের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভবিষ্যদ্বাণী দিতে মুখোড় হয়ে উঠে বিভিন্ন প্রাণীরা। ২০১০ সালে অক্টোপাস পলকে এখনো সবাই মনে রেখেছে তার ক্ষুরধার ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য। স্পেনকে বিশ্বকাপ জয়ী বলেছিল সে এবং হয়েও ছিল তাই। তবে ২০১৪ বিশ্বকাপে শাহীন নামের এক উট ভবিষ্যদ্বাণী দিলেও তা কার্যকরী ছিল না। 

ঠিক তেমনি এবারের কোপা আমেরিকার ফাইনাল আসরের ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছে ব্রাজিলের সাও পাওলোর এক পোষা হাতি এবং ভারতের তেলাঙ্গানার অদ্ভুত এক মাকড়সা। বিস্তারিত জানুন হাতি ও মাকড়সার ভবিষ্যদ্বাণীতে।


হাতির ভবিষ্যদ্বাণীঃ


কোপা আমেরিকার ফাইনাল আসরে কে হবে শিরোপা জয়ী তা জানতে একটি পোষা হাতি নিয়ে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান করে ফেললো স্বাগতিক ব্রাজিলের সাও পাওলোর বাসিন্দারা। ফাইনাল ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী জানতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে 'সাও অনলাইন নিউজ' নামের একটি গ্রুপ।

গত ৮ জুলাই স্থানীয় সময় বাদ সন্ধ্যায় হাতিটির সামনে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা রাখা হয়। এরপর একাধারে ৩বার ব্রাজিলের পতাকাটি উঠিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে পোষা ঐ হাতিটি। একপর্যায়ে পতাকা দুটিকে লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে হাতিটির সামনে দেয়া হয়; কিন্তু সবাইকে অবাক করে আবারও  হাতিটি পরপর ৩বার ব্রাজিলের পতাকাটিই উত্তোলন করেছিলো।

এসময় উপস্থিত দর্শকদের মাঝে আনন্দের আমেজ দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস হাতিটি কোপা আমেরিকা আসরে 'কে হবে শিরোপা বিজয়ী' তার সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছে। আর এ বিশ্বাস নিয়েই আনন্দ করতে থাকেন সাও পাওলোর বাসিন্দারা।

তবে নিজেদের মনোবল নিয়েই লড়তে প্রস্তুত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দল। সর্বোচ্চ দেয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে লড়বে শক্তিশালী দলদুটি।


মাকড়সার ভবিষ্যদ্বাণীঃ



সাও পাওলোতে পোষা হাতিটি ফাইনাল মঞ্চে ব্রাজিল দলের জয়ী হবার ইঙ্গিত দিলে ভিন্ন ইঙ্গিত দিলো ভারতের এক অদ্ভুত মাকড়সা। মাকড়সাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে এবারের কোপা আসরের শিরোপা জয়ী হবে লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা।

কোপা আমেরিকার সর্বশেষ সেমিফাইনাল ম্যাচ দুটির সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো নাম না জানা অদ্ভুত এ মাকড়সাটি। ভারতের তেলেঙ্গানাতে 'Copa Updates' নামের এক মেসেঞ্জার গ্রুপ এ মাকড়সাটি নিয়ে কাজ করছিলো। তারা খেলার পূর্বেই সেমিফাইনাল পর্বের ম্যাচ দুটির সঠিক ফলাফল জানিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো।

এবার গ্রুপটি জানিয়েছে কোপার শিরোপা জয়ী হতে চলেছে লিওনেল মেসির দল। গ্রুপটির পক্ষ থেকে জানানো হয় অদ্ভুত ঐ মাকড়সাটির সামনে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা রাখা হয়। এরপর মাকড়সাটি সুন্দরভাবে আর্জেন্টিনা পতাকার উপর গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে। একইভাবে ১ম সেমিফাইনালে ব্রাজিল দলের এবং ২য় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা দলের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলো সে।


তবে ভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল। তারা মনে করেন কাকতালীয়ভাবে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কোনোটি মিলে গেলেও সবসময় যে সঠিক হবে তার কোনো ভিত্তি। তাই এসব ভবিষ্যদ্বাণীতে নজর না দিতে পরামর্শ তাদের।

এদিকে নিজেদের মনোবল নিয়েই লড়তে প্রস্তুত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দল। সর্বোচ্চ দেয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে লড়বে শক্তিশালী দলদুটি।


সূত্রঃ বাংলা পোস্ট২৪ 

Friday, 9 July 2021

১৪ বছরপর ফাইনাল মঞ্চে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাঃ খাতায় কলমে এগিয়ে কারা?

১৪ বছরপর ফাইনাল মঞ্চে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাঃ খাতায় কলমে এগিয়ে কারা?


স্পোর্টস ডেস্কঃ মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। শেষ ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী দল দুটি। এবার ফের ২ বছর বাদে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় ডার্বি ও অন্যতম বড় ম্যাচ হতে চলেছে কোপা আমেরিকার মঞ্চে। কোপা আমেরিকার ফাইনাল মঞ্চে ২০০৭ সালে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। ১৪ বছর পর একই মঞ্চে ফের প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ম্যাচ দেখবে বিশ্ব। তবে ফাইনাল ম্যাচের পূর্বে দেখে নেয়া যাক খাতায় কলমে এগিয়ে কারা। 

ইতিহাস বলছে, বড় আসরে ব্রাজিলের কাছে পাত্তাই পায় না আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০০৭ সালের কোপা ফাইনালে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। এবারেও কী সেই ফলের অ্যাকশন ফের ঘটবে নাকি রেজাল্ট বদলাবে। তবে ২০০৭ সালের পরে আরও একবার কোপায় মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ২০১৯ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালেও আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল। 

তবে কোপার তথ্য বিচার করলে দেখা যাবে ২টি বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা এবং ৫বারের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের থেকে কোপা আমেরিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টাইনরা। এখন পর্যন্ত ১৪ বার দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ শিরোপা জিতেছে দলটি আর ৯ বার কোপায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল।

কোপা আমেরিকার দ্বৈরথে এগিয়ে অবশ্য মেসির দেশ। এখনও পর্যন্ত ৩৩টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। যারমধ্যে আর্জেন্টিনা জিতেছে ১৫টি ম্যাচ ও  ব্রাজিল জিতেছে ১০টিতে, ড্র হয়েছে ৮টি ম্যাচ। গোলের সংখ্যার দিকেও এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির দেশ কোপায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত করেছে ৫২টি গোল অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নেইমারের ব্রাজিল করেছে ৪০টি গোল।

তবে সামগ্রিক দ্বৈরথে এগিয়ে ব্রাজিল। সমস্ত প্রতিযোগিতা ধরলে আজ পর্যন্ত দুই দেশ পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে মোট ১০৭ বার। ৩৯টিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল জিতেছে ৪৩টিতে, ড্র হয়েছে ২৫টি ম্যাচ। আর্জেন্টিনা গোল করেছে ১৬১টি, ব্রাজিল ১৬৬টি।বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২ বার জিতেছে ব্রাজিল, একবার আর্জেন্টিনা, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ব্রাজিল গোল করেছে ৫টি, আর্জেন্টিনা তিনটি।

ফিফা কনফেডারেশনস কাপে একবারই হয়েছে এই দ্বৈরথ, ২০০৫ সালের ফাইনালে। সেই ম্যাচটিতে ব্রাজিল জেতে ৪-১ গোলে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের খেলায় দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছে আটবার। চারবার জিতেছে ব্রাজিল, দুবার আর্জেন্টিনা, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

এবার রবিবারের ফাইনাল ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব ফুটবল। এখন দেখার অপেক্ষা কোপা আমেরিকা ২০২১ এর ফাইনালে নেইমার ও মেসির দল নিজেদের রেকর্ড কতটা বদলাতে পারেন।

Thursday, 8 July 2021

সম্পত্তি নিয়ে নিয়ে ৫ সন্তানের দ্বন্দ্ব, ২৯ ঘণ্টা পর বাবার লাশ দাফন

সম্পত্তি নিয়ে নিয়ে ৫ সন্তানের দ্বন্দ্ব, ২৯ ঘণ্টা পর বাবার লাশ দাফন


মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ ঘণ্টা পর অবশেষে দাফন করা হলো বহুল আলোচিত ইয়াসিন মোল্লার (৮৫) লাশ। বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে তার বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়।

৬ জুলাই মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় তার মৃত্যু হলে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে লাশ দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃদ্ধের ৫ সন্তানের ৪ জন। সম্পত্তির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত লাশ দাফনেও বাধা দেন তারা। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মৃত্যু হলেও বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে লাশ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দফায় দফায় সালিশের মাধ্যমে দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর সন্তানরা লাশ দাফনের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। কিন্তু ততক্ষণে খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি থানায় নিয়ে যায়।

পরে সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৮টার দিকে লাশ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চর পাঁচুরিয়ার অম্বলপুর গ্রামে বৃদ্ধের বসতবাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়।

বৃদ্ধের সন্তানদের এমন কীর্তিতে হতবাক হয়ে গেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বঃ বাবার লাশ দাফনে ৪ সন্তানের বাধা

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মোল্লা জানান, ইয়াসিন মোল্লা ইতোপূর্বে তার বসতবাড়ি ও মাঠের জমিজমাসহ মোট ৬০ শতাংশ জমি তার ছোটছেলে রহমান মোল্লার নামে লিখে দেন। কিন্তু বিষয়টি তার বড়ছেলে বাবলু মোল্লা এবং তিন মেয়ে মেনে নিতে পারেননি। এ নিয়ে অনেক বিচার-সালিশ হয়েছে। আদালতে মামলাও চলছে। বিরোধের কারণে রহমান বাড়িতেও টিকতে পারেনি। সে গোয়ালন্দ পৌর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। এ বিরোধের জেরেই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সিসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা বসে ইয়াসিন মোল্লার বাড়িঘর ও জমিজমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে ইয়াসিন মোল্লার ৫ সন্তানই রাজি হয়ে স্ট্যাম্প স্বাক্ষর দিয়েছেন। আশা করি আমরা এর একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান দিতে পারব। 

গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই  মো. মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, আমরা খবর পাই বৃদ্ধ ইয়াসিন মোল্লাকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সেজন্য বিতর্ক এড়াতে জিডি মূলে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের আলোকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোলাপগঞ্জে মসজিদের গ্রীলে ফাঁসঃ শিশুর লাশ উদ্ধার

গোলাপগঞ্জে মসজিদের গ্রীলে ফাঁসঃ শিশুর লাশ উদ্ধার


গোলাপগঞ্জে মসজিদের গ্রীলে ফাঁস দেয়া অবস্থায় এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। বুধবার বিকালে উপজেলার বাঘা কালাকোনা হেউরাউলি মসজিদের ভেতর থেকে মোহাম্মদ আলী (৮) নামের ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের আটগ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

জানা যায়, কিছুদিন থেকে শিশু মোহাম্মদ আলীর ভাই কালাকোনা হেউরাউলি মসজিদের ইমাম রমিজ আলীর সাথে মসজিদে বসবাস করছে। সে কোরআন শিক্ষায় অমনযোগী থাকায় বুধবার বিকালে রমিজ আলী বকাঝকা করেন। এর কিছুক্ষন পরই মসজিদের বারান্দার গ্রীলের সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান তিনি। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। 

এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে সে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের প্রতিবাদে প্রজন্ম’৭১ যুক্তরাজ্য’র বিবৃতি

বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের প্রতিবাদে প্রজন্ম’৭১ যুক্তরাজ্য’র বিবৃতি


লন্ডন: মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্রিটেনে বাংলাদেশের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ সংগঠকদের বাদ দিয়ে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশের প্রতিবাদ এবং সবার নিকট গ্রহণযোগ্য প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধার একটি সম্পূর্ণ তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশের দাবি জানিয়েছে প্রজন্ম’৭১ যুক্তরাজ্য। 

সংগঠনের আহবায়ক মো: বাবুল হোসেন ও সদস্যসচিব এ কে এম আব্দুল্লাহ এক বিববৃতিতে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমন গঠনে এবং পাকিস্তানী সৈন্যদের গনহত্যা-নির্যাতনের বিপক্ষে বিশ্বে জনমত তৈরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ব্রিটেনে পূর্ব বাংলার প্রবাসী বাঙালিরা।ব্রিটিশ এবং ভারতীয় মিডিয়ার মাধ্যমে ২৫শে মার্চের কালো রাতের নৃশংসতার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন, যে ক্ষোভ প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা দীর্ঘ নয় মাস ধরে সংগঠিত এক সফল আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।মুক্তি সংগ্রামে প্রবাসীদের আবদান বাঙ্গালী জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে। 

মহান মু‌ক্তিযু‌দ্ধে বি‌লে‌তের এই প্রবাসী বাংলা‌দেশীরা নিজের জন্মভুমির জন্য তা‌দের পুরো বেতন তু‌লে দি‌য়ে‌ছি‌লেন মু‌ক্তিযু‌দ্ধ সহায়তার ফা‌ন্ডে।বার্মিংহাম, ম্যানচেষ্টার, ওল্ডহামসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থে‌কে প্রতিদিন বাসে ক‌রে ক্ষুদ্ধ প্রবাসীরা অংশ নিতেন লন্ড‌নের ট্রাফেলগার স্কোয়ারের বি‌ক্ষো‌ভসহ নানা কর্মসূচীতে।

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী নারীরাও তখন অনন্য ভুমিকা রেখে ছিলেন।লন্ডনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে নারীরাও ব্যাপক মিছিল-মিটিংয়ের আয়োজন করেছিলেন। সেন্ট জেমস পার্ক থেকে মিছিল করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে সেদিন বাংলাদেশে গণহত্যার অবসান এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি সংম্বলিত  পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শাড়ি পরা নারীদের মিছিল পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।যা আজও ইতিহাস হয়ে আছে। এমনকি পরণের স্বর্নালংকার,সংসার এবং সন্তা‌নের দু‌ধের পয়সা বাঁচিয়ে সেই টাকা মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে তু‌লে দি‌য়ে‌ছিলেন এখানকার শত শত গৃহবধূ।অথচ প্রকাশিত তালিকায় একজন সংগঠকেরও নাম উল্লেখ নেই। 

আমরা মনে করি যেহেতু বাংলা‌দে‌শের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অনেকদিন যুক্তরাজ্যে ছিলেন এবং  বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ট কন্যা শেখ রেহানা দীর্ঘদিন থেকে এদেশে বসবাস করছেন,তাঁদের নিশ্চয়ই জানা আছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কারা মু‌ক্তিযুদ্ধে কীভাবে সহযোগিতা করেছেন।মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্রিটেন প্রবাসীদের  কার কি অবদান রয়েছে। 

তাই তালিকাটি প্রনয়নে সরকার লন্ডনস্হ  বাংলাদেশ হাইকমিশন, মুক্তিযুদ্ধে ভুমিকা রয়েছে এমন জীবিত ব্যক্তিবর্গ,  কমিউনিটির মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশিষ্ট  সবাইকে নিয়ে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরীর জন্য জোর দাবী জানান। এছাড়া তালিকাভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ না করারও আহবান জানান তারা।

নাজিরবাজারে দীপ্ত সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের কমিটি গঠন

নাজিরবাজারে দীপ্ত সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের কমিটি গঠন

দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে দীপ্ত সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে  এলাকার যুব সমাজের উপস্থিতিতে গত ১৯  জুন সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয় এবং আহবায়ক কমিটি তাদের মতামতের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই শেষে ২ বছর মেয়াদকালীন একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষণা করে।

দীপ্ত সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের ২ বছর মেয়াদকালীন কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা হলেনঃ

সভাপতি মোঃ জাকিরুল ইসলাম কামরান,
সহ-সভাপতি ডাক্তার ইমরান,
সহ-সভাপতি সুয়েব আহমদ,

সাধারণ সম্পাদক অজি আহমদ,
সহ-সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান,
সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উজ্জ্বল,

সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন দেব নাথ,
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদী্‌ন,

কোষাধক্ষ্ তোফায়েল আহমদ,
সহ-কোষাধক্ষ্য শাহ কামরান,

প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক পাবেল আহমেদ,
সহ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুমিন,

দপ্তর সম্পাদক মিঠুন খাঁন, 

ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টিপু,

শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জামিল আহমদ

সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান রুমন,

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ ফাহেদুর রহমান রাহেল।

সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বঃ বাবার লাশ দাফনে ৪ সন্তানের বাধা

সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বঃ বাবার লাশ দাফনে ৪ সন্তানের বাধা



বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখেই সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছেন পাঁচ সন্তান। এমনকি সম্পত্তির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত লাশ দাফনেও বাধা দেন চার সন্তান। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মৃত্যু হলেও বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে লাশ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দফায় দফায় সালিশের মাধ্যমে দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর সন্তানরা লাশ দাফনের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। কিন্তু ততক্ষণে খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি থানায় নিয়ে যায়।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ চর পাঁচুরিয়ার অম্বলপুর গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম ইয়াছিন মোল্লা (৮৫)। তার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। কিন্তু ইয়াসিন মোল্লা ইতোপূর্বে তার বসতবাড়ি ও মাঠের জমিজমাসহ মোট ৬০ শতাংশ জমি তার ছোট ছেলের নামে লিখে দেন।

স্থানীয়রা জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ইয়াছিন মোল্লার পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে বাবলু মোল্লা, ফুলবড়ু বেগম, রাবেয়া বেগম ও মমতাজ বেগমের সাথে ছোট ছেলে রহমান মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে রহমান বাড়িতেও টিকতে পারেননি। তিনি গোয়ালন্দ পৌর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।

এ বিরোধের জেরেই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন না করে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধের সন্তানদের এমন কীর্তিতে হতবাক হয়ে গেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো: হাফিজুল ইসলামের হস্তক্ষেপে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হলেও স্থানীয়দের খবরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে জিডি মূলে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠায়।

মৃত ইয়াছিন মোল্লার বড় ছেলে বাবলু মোল্লা, মেয়ে ফুলবড়ু বেগম, রাবেয়া বেগম ও মমতাজ বেগম অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাবা ছোট ভাই রহমান মোল্লার কাছে থাকেন। সেই সুযোগে সে বাবাকে ফুঁসলিয়ে তার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছে।

এ নিয়ে রাজবাড়ীর আদালতে আমরা একটা মামলাও করি। সেই মামলায় গত ৫ জুলাই আদালত বাবাকে হাজির হতে নির্দেশ দিলেও অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

অসুস্থতার খবরে আমরা বাবাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে চাইলেও ছোট ভাই আমাদের কথা না শুনে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করায়। আমাদের ধারণা, ছোট ভাই রহমান ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবাকে মেরে ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গে মৃত ব্যক্তির ছোট ছেলে রহমান মোল্লা বলেন, গত শুক্রবার হঠাৎ করে বাবা অসুস্থ হলে তাকে গোয়ালন্দে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। এ সময় ডাক্তার কিছু টেস্ট ও ওষুধ লিখে দেন এবং বাবাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাতে বলেন। আমি সেই অনুযায়ী বাবাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাচ্ছিলাম।

গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে বাবা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আমার ভাই-বোনেরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমার বাবা সুস্থ অবস্থায়-সজ্ঞানে আমার নামে বাড়ি ও জমি লিখে দিয়ে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো: হাফিজুল ইসলাম বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। লকডাউনের পরে তাদের জমি-জমার বিষয়টির সমাধান করে দেব বলে আশ্বস্ত করি। পরে স্ট্যাম্পে পাঁচ ভাই-বোনের স্বাক্ষর নিয়ে মৃত ইয়াছিন মোল্লার দাফনের সিদ্ধান্ত নেই। এ সময় ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মো: মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে জিডি মূলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।